September 01, 2026

গবেষণা ও উদ্ভাবনে ডুয়েটকে দেশের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার - উপাচার্য

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেছেন, দেশের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গত দুই যুগ ধরে সগৌরবে একাডেমিক উৎকর্ষ ও গবেষণা বিস্তারে ভূমিকা রেখে চলছে ডুয়েট। তিনি বলেন, “যুগোপযোগী টেকসই উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, উদ্ভাবন ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডুয়েটকে দেশের শ্রেষ্ঠতম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বিশ্বদরবারে জ্ঞানে, দক্ষতায় ও মানবতায় অনন্য করে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।” আজ মঙ্গলবার (১লা সেপ্টেম্বর) “ঐক্যের বন্ধনে অটুট ডুয়েট” প্রতিপাদ্যে ডুয়েটের ২৩ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডুয়েট ডে-২০২৬’ উদ্যাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মাননীয় উপাচার্য শিক্ষক, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকলকে ‘ডুয়েট ডে-২০২৬’-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

সকালে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, বেলুন উড্ডয়ন, পায়রা অবমুক্তকরণ ও কেক কেটে দিবসটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল। পরে বর্ণাঢ্য র‌্যালি সহকারে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে বৃক্ষরোপণ করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে গবেষণাকর্মে উৎকর্ষের স্বীকৃতিস্বরূপ শিক্ষকদের একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের ডীনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে আরও ছিল শিক্ষক বনাম ডুয়েট এলামনাই রশি টানাটানি ও প্রীতি ভলিবল ম্যাচ, সাবেক শিক্ষার্থীদের ডুয়েট বাস্তবায়ন আন্দোলনের স্মৃতিচারণ এবং বাদ যোহর কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল।

অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল ডুয়েটের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, “ডুয়েটের পথচলা শুরু হয়েছিল ১৯৮০ সালে কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং, ঢাকা হিসেবে। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচন করার প্রয়াসে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং ১৯৮৬ সালে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), ঢাকা নামে রূপান্তরিত হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের ফলে ২০০৩ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসিত বিআইটি, ঢাকা পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ‘ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর’ নামে আত্মপ্রকাশ করে।” এ প্রসঙ্গে তিনি ডুয়েটের নামকরণ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিখাতকে এগিয়ে নিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের আন্তরিক প্রচেষ্টার কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

মাননীয় উপাচার্য আরও বলেন, “প্রতি বছর ডুয়েট থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করছে এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ দেশের বিদ্যুৎ-জ্বালানি অবকাঠামো থেকে শুরু করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতসহ জাতীয় উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।” দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও ডুয়েটের গ্র্যাজুয়েটরা মেধার স্বাক্ষর রেখে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব পেরিয়ে পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা বর্তমান বিশ্ব প্রসঙ্গে মাননীয় উপাচার্য বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, রোবোটিক্স, ইন্টারনেট অব থিংস, বিগ ডেটা, ন্যানোটেকনোলজি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো বিভিন্ন প্রযুক্তির বিস্ময়কর বিকাশ যেমন অভূতপূর্ব সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে, তেমনি জলবায়ু পরিবর্তন, দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি, প্রযুক্তিগত বৈষম্য ও সাইবার নিরাপত্তার মতো চ্যালেঞ্জও ক্রমেই বাড়ছে। এই বাস্তবতায় প্রকৌশল শিক্ষাকে যুগোপযোগীকরণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলাই ডুয়েটের প্রধান অগ্রাধিকার। ২৩তম ডুয়েট ডে-এর এই দিনে আমরা নতুন করে সেই অঙ্গীকারই ব্যক্ত করছি।” 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রুমা বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। তিনি বলেন, “ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের প্রকৌশল ডিপ্লোমাধারীদের একমাত্র স্বপ্নের ঠিকানা, যেখানে মেধা ও পরিশ্রমের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠে দক্ষ প্রকৌশলী প্রজন্ম। আজ আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু নামকরা জাতীয় প্রতিষ্ঠানে নয়, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রে নিজেদের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমাণ করছে। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনশীল এই যুগে ডুয়েট শিক্ষার্থীদের গবেষণা, উদ্ভাবন ও নৈতিকতার সমন্বয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলে দেশের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য।” এ সময় সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডুয়েটকে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. আকরামুল আলম, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. কামাল-আল-হাসান, পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) অধ্যাপক ড. মো. আনওয়ারুল আবেদীন, পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাস এবং শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এস. এম. মাহফুজ আলম।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ ও বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজানো ক্যাম্পাস উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

August 21, 2026

মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং ডুয়েটের আচার্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উপাচার্যের শুভেচ্ছা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত ২৩ তম রাষ্ট্রপতি এবং ডুয়েটের আচার্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল। আজ শুক্রবার (২১শে আগস্ট, ২০২৬) এক অভিনন্দন বার্তায় মাননীয় উপাচার্য বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন অভিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ ও পরিশীলিত রাজনীতিবিদ হিসেবে সর্বমহলে স্বীকৃত এবং সকলের কাছে সুপরিচিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও কর্মজীবনে তিনি তার মেধা, প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের রাজনীতি ও জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। একজন প্রাজ্ঞ ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি রাষ্ট্রের কর্ণধার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় আমি আনন্দিত। এটি তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি জাতির অবিচল আস্থার সুদৃঢ় প্রতিফলন।”

মাননীয় উপাচার্য আরও বলেন, “মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাবান, বিচক্ষণ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় নব দিগন্তের সূচনা করবে এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার যথাযথ প্রতিফলন ঘটাবে বলে আমি প্রত্যাশা করি। তাঁর সুদীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা দেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আচার্য হিসেবে তাঁর বহুমুখী ও দূরদর্শী দিকনির্দেশনায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, গবেষণার প্রসার, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রায়োগিক ব্যবহারসহ আন্তর্জাতিক মানের উদ্ভাবনী জ্ঞান সৃষ্টির ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও মর্যাদাময় স্থানে পৌঁছাবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”

অভিনন্দন বার্তায় মাননীয় উপাচার্য আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের মর্যাদা সমুন্নত রাখবেন এবং দেশের গণতন্ত্র সুসংহতকরণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জাতীয় ঐক্য সাধন ও জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। একজন দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখবেন বলে মাননীয় উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

মাননীয় উপাচার্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে তাঁর এই নতুন পথচলায় সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করেন।

August 05, 2026

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে - ডুয়েট উপাচার্য

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : 

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেছেন, “ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সংঘটিত ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান চির স্বাধীনচেতা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনবদ্য আখ্যান। বাংলাদেশকে বৈষম্যমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও সুখী-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার যে আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্নের ওপর দাঁড়িয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল, দুই বছর পেরিয়ে আজ আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন। এজন্য জুলাইয়ের স্পিরিটকে পথচলার চিরন্তন আলোক-বর্তিকা হিসেবে নিয়ে সব বাধা বিপত্তি পেরিয়ে বিভেদ ভুলে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।” আজ বুধবার (৫ই আগস্ট ২০২৬) ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি সকলকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের শুভেচ্ছা জানান।

সকালে মাননীয় উপাচার্য বেলুন উড়ানো, বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে দিবসটি উপলক্ষ্যে শহিদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. রুমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাস। এ সময় মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন এবং শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এস. এম. মাহফুজ আলম।

আলোচনা অনুষ্ঠানে মাননীয় উপাচার্য আরও বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল স্বৈরাচারি ক্ষমতার শৃঙ্খল ভাঙতে মুক্তিকামী ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব জাগরণ। আজ স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি শহিদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, শাকিল পারভেজসহ রাজপথের সেইসব লড়াকু তরুণ প্রাণকে, ফ্যাসিবাদের বুলেটের বিপরীতে যাদের তাজা রক্ত আর আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা নতুন এক ভোরের দেখা পেয়েছি।” একটি গণতান্ত্রিক এবং মানবিক রাষ্ট্র গঠন করার মাধ্যমে শহিদদের রক্তের ঋণ কিছুটা হলেও শোধ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মার শান্তি ও আহতদের পরিপূর্ণ সুস্থতার সাথে স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তন কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল আরও বলেন, “তোমরাই বাংলাদেশের আগামী দিনের প্রকৌশলী, গবেষক, উদ্ভাবক এবং নীতিনির্ধারক। তোমাদের হাতে গড়ে উঠবে বাংলাদেশের শিল্প, প্রযুক্তি, অবকাঠামো এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি। তাই শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনই যথেষ্ট নয়; সততা, শৃঙ্খলা, মানবতা, সহনশীলতা এবং দেশপ্রেমকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। জ্ঞানার্জন কেবল তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জাতীয় অগ্রগতিতে অবদান রাখে। সকলের নিষ্ঠাপূর্ণ সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা ডুয়েটকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই- যা হবে আন্তর্জাতিকমানের শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র, যেখানে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি হবে, উদ্ভাবনের বিকাশ ঘটবে এবং জাতীয় সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবসম্মত সমাধান উদ্ভাবিত হবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপ-উপাচার্য বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্মিলিতভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে নিজেদের অধিকার আদায়ের শিক্ষা দেয়। মহান এ অভ্যুত্থানের স্পিরিট হৃদয়ে ধারণ করে সকলকে নিয়ে আমরা টেকসই উন্নয়ন ও অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যেতে চাই। এজন্য একজন সুনাগরিক হিসেবে বৈষম্যমুক্ত, সাম্য এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সকলকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে।”

ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্টের সহকারী অধ্যাপক আকরামুল হক এবং আর্কিটেকচার বিভাগের প্রভাষক সুনীলা বিনতে আহসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ডুয়েটের পাঁচজন জুলাই যোদ্ধা অভ্যুত্থানের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন। পরে ডুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এস. এম. মাহফুজ আলম, অফিসার্স এসোসিয়েশনের আহবায়ক প্রকৌশলী মো. হারুন আল রশিদ এবং কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, প্রভোস্ট, অফিস প্রধানগণসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবালসহ বিশেষ অতিথিবৃন্দ বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন| পরে মাননীয় উপাচার্য শিক্ষার্থীদের আয়োজনে স্বেচ্ছা রক্তদান কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন।

দিবসের অন্যান্য কর্মসূচীর মধ্যে ছিল বা’দ যোহর কেন্দ্রীয় মসজিদে শহিদ ও আহতদের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠান, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রীতি ভলিবল প্রতিযোগিতা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী।

August 02, 2026

ডুয়েটের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ও ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : 

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ও ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা-২০২৬ আজ রবিবার (২রা আগস্ট, ২০২৬) সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে আজ সকাল ৯.৩০ ঘটিকা হতে দুপুর ১২.০০ ঘটিকা পর্যন্ত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং ম্যাটেরিয়ালস এন্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

একই দিন দুপুর ২.০০ ঘটিকা হতে বিকাল ৪.৩০ ঘটিকা পর্যন্ত ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ,  আর্কিটেকচার বিভাগ, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবালের নেতৃত্বে মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. রুমাসহ অন্যান্য অধ্যাপকবৃন্দ পরীক্ষার হলসমূহ পরিদর্শন করেন। মাননীয় উপাচার্য ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীকে ডুয়েটের সবুজ ক্যাম্পাসে স্বাগত জানিয়ে তাদের সফলতা কামনা করেন। নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

July 31, 2026

ডুয়েটে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ও ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা-২০২৬ আগামী রোববার

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : 

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ও ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা-২০২৬ আগামী রোববার (২রা আগস্ট, ২০২৬) অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে আগামী রোববার সকাল ৯:৩০ ঘটিকা থেকে প্রথম শিফটে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ/ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ/ম্যাটেরিয়ালস এন্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। 

একই দিন দুপুর ২:০০ ঘটিকা থেকে দ্বিতীয় শিফটে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, আর্কিটেকচার বিভাগ, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

ভর্তি বিষয়ক যে কোনো তথ্য http://admission.duetbd.org ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

July 29, 2026

ডুয়েটের উপ-উপাচার্য হলেন অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রুমা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

ঢাকা প্রকৌশল ও  প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর তৃতীয় উপ-উপাচার্য হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার (২৮শে জুলাই, ২০২৬) যোগদান করেছেন ডুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রুমা।

যোগদানের পর আজ সকালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, দপ্তর প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, “ডুয়েটের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও টেকসই করতে সম্মিলিত নেতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। আমি বিশ্বাস করি, নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য তাঁর দীর্ঘ একাডেমিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, প্রশাসনিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে অবদান রাখবেন। ডুয়েটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং ডুয়েটকে শিক্ষার্থীবান্ধব, গবেষণাকেন্দ্রিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।”

যোগদান শেষে মাননীয় উপ-উপাচার্য ডুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন, “শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ডুয়েটের অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল করতে আমি সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবো। মাননীয় উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি আধুনিক, জ্ঞানভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণায় সমৃদ্ধ ডুয়েট বাস্তবায়নই আমাদের মূল লক্ষ্য।” এক্ষেত্রে তিনি ডুয়েটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সকল ধরনের সহযোগিতা কামনা করেন।

গত ২৭শে জুলাই রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব কাজী নূরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত উপ-উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তিনি চার বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রুমা বর্তমানে ডুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতঃপূর্বে তিনি ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, হল প্রভোস্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ডুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক (ইঞ্জি.) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি জাপানের কুমামোতো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পালস পাওয়ার এন্ড প্লাজমা বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ড. রুমার গবেষণার ক্ষেত্রসমূহ হলো হাই-ভোল্টেজ ডিসর্চাজ প্লাজমা, রিনিউয়েবল এনার্জি, পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স এন্ড পাওয়ার সিস্টেমস। তাঁর ৩৯ টিরও অধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নাল ও কনফারেন্স প্রোসিডিংস প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত আছেন।

অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রুমা নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার সৈয়দের খোলা গ্রামে ১৯৮১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম হারুন অর রশিদ এবং মাতা রেহানা পারভীন। তাঁর স্বামী ড. প্রকৌশলী আহসান হাবীব সিটি ইউনিভার্সিটির যন্ত্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি তিন সন্তানের জননী।

July 25, 2026

বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নির্ভর করে গণিতে দক্ষতার ওপর - ডুয়েট উপাচার্য

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেছেন, “কোনো জাতির বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অধিকাংশই নির্ভর করে সেই জাতির গণিতে দক্ষতার ওপর।” আজ শনিবার (২৫ই জুলাই, ২০২৬) ডুয়েটের গণিত বিভাগ ও ম্যাথ ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দেশের অন্যতম বৃহৎ গণিত উৎসব ন্যাশনাল ম্যাথমেটিক্স কার্নিভাল ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য বলেন, “আজকের এই কার্নিভাল কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি আমাদের তরুণ প্রজন্মের যুক্তিবাদী ও বিশ্লেষণী মনন গঠনের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। গণিত একাডেমিক বিষয়ের পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিরও মূল চালিকাশক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং আজ যে বিস্ময়কর অগ্রগতি দেখাচ্ছে তার ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে পরিসংখ্যান, ক্যালকুলাস ও লিনিয়ার অ্যালজেব্রা। তথ্য নিরাপত্তা ও সাইবার সিকিউরিটির মূলে রয়েছে সংখ্যাতত্ত্ব ও ক্রিপ্টোগ্রাফি। মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাস, চিকিৎসাবিজ্ঞানে জিনোম সিকোয়েন্সিং কিংবা প্রকৌশলের জটিলতম নকশা- সবকিছুর মূলে গাণিতিক মডেলিং কাজ করছে। মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রায় গণিতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য। এটি অনায়াসেই বলা যায় যে, একটি জাতির বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অধিকাংশে নির্ভর করে গণিতে সেই জাতির দক্ষতার ওপর।”

তিনি আরও বলেন, “ডুয়েট সবসময় প্রকৌশল শিক্ষার পাশাপাশি মৌলিক বিজ্ঞান ও গণিতচর্চাকে উৎসাহিত করে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির এই যুগে গণিতচর্চাকে জনপ্রিয় করে তুলতে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটাতে প্রতি বছর এই কার্নিভাল আয়োজনের বিকল্প নেই।” বর্ণাঢ্য এ উদ্যোগের জন্য তিনি গণিত বিভাগ ও ম্যাথ ক্লাবকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং আজকের আয়োজনে অংশগ্রহণকারী প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম বয়ে আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সকালে ডুয়েটের শহিদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কার্নিভাল শুরু হয়। ডুয়েটের মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার কার্নিভালের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, “গণিত হলো বিজ্ঞানের ভাষা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হোক বা রোবোটিক্স, আধুনিক প্রযুক্তির যে কোনো অগ্রগতির মূলে রয়েছে গাণিতিক মডেলিং ও যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা। শিক্ষার্থীদের স্কুলজীবন থেকেই গণিতের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে পারলে তারা ভবিষ্যতে যে কোনো জটিল সমস্যা সমাধানে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। এ ধরনের কার্নিভাল সেই ভিত্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু নঈম শেখের সভাপতিত্বে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেটের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী সালমা আখতার, ডুয়েট ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাহাব উদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাকুর রহমান, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আজমল হোসেন, ডুয়েট ম্যাথ ক্লাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোছা. নাসরিন আখতার, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির পরিচালক (অর্থ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শফিকুল হক। অনুষ্ঠানে কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ এবং প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক জনাব আনিসুল হক। ম্যাথ ক্লাবের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ক্লাব সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ রতন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. রাফিউজ্জামান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, পরিচালকবৃন্দ এবং গণিত বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কার্নিভালে সারাদেশের প্রায় দেড়শো স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থী গণিত অলিম্পিয়াড, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতা ও ম্যাথ গেমসের মতো নানা আয়োজনে অংশ নেয়। বিকেলে সার্টিফিকেট, ক্রেস্ট ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে কার্নিভালের সমাপ্তি ঘটে।

July 12, 2026

সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে ডুয়েট উপাচার্যের শোক

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, মহান ভাষা আন্দোলনের বীর সৈনিক, প্রথিতযশা আইনজীবী এবং বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আজ রোববার (১২ জুলাই ২০২৬) মৃত্যুবরণ করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। 

বরেণ্য এ রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও সমবেদনা জানিয়েছেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর-এর মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল।

শোক বার্তায় মাননীয় উপাচার্য বলেন, “ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, প্রজ্ঞা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।’’

মাননীয় উপাচার্য আরও বলেন, “দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার সততা, প্রজ্ঞা এবং মহান গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তাঁর অপরিসীম বিনয়, প্রজ্ঞা, অতুলনীয় সৌজন্যতাবোধ ও আন্তরিকতা সর্বমহলে সমাদৃত ও সম্মানিত হয়েছে। তাঁর প্রয়াণে দেশ এক দেশপ্রেমিক, প্রাজ্ঞ ও অভিভাবকসুলভ রাজনীতিবিদকে হারিয়েছে, যা সমগ্র জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।” গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামসহ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সুসংহতকরণ, সংসদীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। 

মাননীয় উপাচার্য মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবৃন্দ, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

July 08, 2026

ডুয়েটে গবেষণায় উৎকর্ষ, আন্তর্জাতিক কোলাবোরেশন ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) এবং ডুয়েট ক্যারিয়ার অ্যান্ড রিসার্চ ক্লাবের (ডুয়েট সিআরসি) যৌথ উদ্যোগে “রিসার্চ এক্সেলেন্স, ইন্টারন্যাশনাল কোলাবোরেশন, অ্যান্ড হায়ার এজুকেশন : পাথওয়েজ টু গ্লোবাল অপরচুনিটিজ” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (৮ই জুলাই, ২০২৬) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীগণ অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডুয়েটের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাস এবং আইকিউএসি'র অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিস্টিংগুইশড রিসার্চ প্রফেসর এবং রিসার্চ সেন্টার ফর ন্যানো-ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড এনার্জি টেকনোলজির প্রধান অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ডুয়েট সিআরসি'র সভাপতি হাসানুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, “বিশ্বায়নের এই যুগে আমাদের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের বিশ্বমানের গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ ˆতরি করে দেওয়াই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। ডুয়েট প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মানসম্পন্ন প্রকৌশল গ্র্যাজুয়েট তৈরি এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত বিষয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখুক। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, যৌথ গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে।”

মাননীয় উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আজকের সেমিনার ডুয়েটের গবেষণা সংস্কৃতি বিকাশে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার বলেন, “আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে বৈশ্বিক গবেষণার সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, সে বিষয়ে আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রফেসর ড. সাইদুর রহমানের মতো বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা বিনিময় আমাদের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান পাথেয় হিসেবে ভূমিকা রাখবে।”

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান গবেষণা উৎকর্ষ অর্জনে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিং, যৌথ গবেষণা প্রকল্প ও বৈশ্বিক অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন।

আইকিউএসি'র পরিচালক এবং সেমিনারের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, “মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতকরণে গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। এই সেমিনার আমাদের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ˆবশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সহায়ক হবে।’’

সেমিনার শেষে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্বে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা বৃত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং কী-নোট স্পিকার সেগুলোর উত্তর দেন। সবশেষে সভাপতির ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

July 04, 2026

ডুয়েটের সঙ্গে ইউজিসির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর সঙ্গে আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। ইউজিসি কর্মচারীদের আবাসন সংকট নিরসনে ১৪ তলা বিশিষ্ট এই ভবন নির্মাণের জন্য প্রকল্পের ধারণাপত্র, বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি), স্থাপত্য ও কাঠামোগত নকশা ডুয়েটের কনসালটেন্সি রিসার্চ এন্ড টেস্টিং সার্ভিসেস (সিআরটিএস)-এর মাধ্যমে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রণয়নের লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার (২রা জুলাই, ২০২৬) আগারগাঁওস্থ ইউজিসি কার্যালয়ে এ এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইউজিসির মাননীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, “কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা কমিশনের অন্যতম অগ্রাধিকার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে ডুয়েটসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা, দক্ষতা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী দুই বছরের মধ্যে ভবনটি বসবাসের উপযোগী করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভবনের ধারণাপত্র, ডিপিপি, কাঠামোগত নকশা ও স্থাপত্য নকশা নির্ভুলভাবে এবং দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে, যাতে নির্মাণ কাজে কোনো ধরনের বিলম্ব না হয়।”
ডুয়েটের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, “ইউজিসি যে আস্থা রেখে ডুয়েটকে প্রকল্পটির দায়িত্ব দিয়েছে, তা যথাযথভাবে পালনে বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে।” নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ডিপিপিসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “ডুয়েটে দক্ষ প্রকৌশলী ও স্থপতি রয়েছেন। দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউজিসিকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বেরই অংশ।”
সভায় জানানো হয়, জি-টু-জি পদ্ধতিতে আগামী দুই বছরের মধ্যে ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ করে বসবাসের উপযোগী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, জ্বালানি-সাশ্রয়ী নকশা এবং আধুনিক স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করা হবে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া, জেনারেল সার্ভিসেস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পরিচালক জাফর আহম্মদ জাহাঙ্গীর প্রমুখ এবং ডুয়েটের পক্ষে মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার, চেয়ারম্যান (সিআরটিএস) অধ্যাপক ড. মোহা. আবু তৈয়ব, আর্কিটেকচার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. বায়েজীদ ইসমাইল চৌধুরী, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া, একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল হোসেন, পরিচালক (যানবাহন) অধ্যাপক ড. নাঈম মো. লুৎফুল হক, আর্কিটেকচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জোয়ার্দ্দার হাফিজ উল্লাহসহ ইউজিসি ও ডুয়েটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ইউজিসির মাননীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন। এ সময় তিনি ডুয়েটের শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে ইউজিসির সহযোগিতা কামনা করেন। ইউজিসির মাননীয় চেয়ারম্যান ডুয়েটের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন।
June 27, 2026

শেষ হলো ডুয়েটের সিএসই কার্নিভাল ২০২৬

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী সিএসই কার্নিভাল ২০২৬ আজ শনিবার (২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রি.) সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল| বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের মাননীয় জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া এবং বিডিরেন-এর চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহাম্মদ তাওরিত। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির প্রেসিডেন্ট ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য বলেন, “দেশের বিভিন্ন প্রান্তের একশোর বেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত এক হাজার দুইশোর বেশি প্রযুক্তিপ্রেমী শিক্ষার্থীর প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ এ আয়োজনকে একটি বৃহৎ প্রযুক্তি উৎসবে পরিণত করেছে। এই দুই দিনে আমরা প্রযুক্তি, সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনের এক অনন্য সমন্বয় প্রত্যক্ষ করেছি, যা জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আমাদের প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষার্থীদের অসাধারণ নৈপুণ্যের অনন্য উদাহরণ। আমাদের সিএসই বিভাগ শুধু শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ব্যবহারিক শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বাস্তব সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের মাধ্যমে ভবিষ্যতের দক্ষ প্রযুক্তিবিদ, উদ্ভাবক ও দায়িত্বশীল গবেষক তৈরীতে নিরলসভাবে কাজ করছে। এ কার্নিভালের প্রতিটি প্রজেক্ট, প্রতিটি আইডিয়া, প্রতিটি উপস্থাপনা আমাদের শিক্ষার্থীদের অসীম সম্ভাবনা এবং নিবেদিত পরিশ্রমের প্রতিফলন।” 

মাননীয় উপাচার্য আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত জ্ঞান এবং দক্ষতা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য নয়, বরং সমাজ ও মানবতার কল্যাণে এর যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। আমাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য হবে প্রযুক্তির ব্যবহার ও উন্নয়নের মাধ্যমে সকলের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতি প্রতিশ্রুতি পালন।” মাননীয় উপাচার্য সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষকমণ্ডলী এবং শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত প্রতিযোগী, শিক্ষক, গবেষক, অতিথি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্নিভাল সফল করায় আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে মাননীয় উপ-উপাচার্য বলেন, “আমরা দুই দিনব্যাপী যে অসাধারণ কার্নিভাল আয়োজন করতে পেরেছি তা ডুয়েটের গর্বের বিষয়। এ দুদিনে কার্নিভালে উত্থাপিত সৃজনশীল ধারণাগুলো আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রতিভা ও পরিশ্রমের প্রমাণ। সফল এ আয়োজন থেকে এটি প্রতীয়মান যে, কম্পিউটার সায়েন্স শুধুমাত্র কোডিং নয়— এটি সমস্যা সমাধানের শিল্প, উদ্ভাবনের জগত এবং ভবিষ্যতের নির্মাণ| আপনারা যারা এখানে আছেন, আপনারা আগামীর স্থপতি। আপনারা আপনাদের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখুন| প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে সুযোগে পরিণত করুন, প্রতিটি ব্যর্থতা থেকে শিখুন এবং আপনার স্বপ্ন অনুসরণ করুন।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গাজীপুরের মাননীয় জেলা প্রশাসক বলেন, “বিজ্ঞান হলো চোখ, আর প্রযুক্তি হলো হাতের মতো, যা সমস্যার সমাধান করে। এই কার্নিভালে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা কৃষি, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যার প্রযুক্তিগত সমাধান উদ্ভাবন করছে, যা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে|” তিনি সকলকে বিজ্ঞানের সঙ্গে থাকার আহ্বান জানান।

সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মমতাজ বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাস, ইনোভার্স বাংলাদেশের ন্যাশনাল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি কার্নিভাল ২০২৬-এর ডুয়েট চ্যাপ্টারের প্রজেক্ট ডিরেক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহা. আবু তৈয়ব। এ সময় মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন প্রতিযোগিতার বিচারক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল কাশেম, অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান ও অধ্যাপক ড. ফজলুল হাসান সিদ্দিকী এবং অনুষ্ঠানের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. উম্মে ফাওজিয়া রহিম| এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, পরিচালকবৃন্দ এবং সিএসই বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ইনোভার্স বাংলাদেশের ন্যাশনাল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি কার্নিভাল ২০২৬-এর অংশ হিসেবে ডুয়েট কম্পিউটার সোসাইটি এবং হোয়াইটবোর্ড ইনিশিয়েটিভসের সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে দেশের একশোর অধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজার দুইশোর বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেয়। কার্নিভালের প্রথম দিনে গতকাল আইসিটি অলিম্পিয়াড ও প্রজেক্ট শোকেসিং এবং আজ সমাপনী দিনে ইন্টার-ইউনিভার্সিটি প্রোগ্রামিং কনটেস্ট (আইইউপিসি), এআই হ্যাকাথন কম্পিটিশন-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা তাদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার পরিচয় তুলে ধরে। প্রতিযোগিতা শেষে নেটওয়ার্কিং সেশন এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের পর্দা নামে আজ।

June 26, 2026

ডুয়েটে দুই দিনব্যাপী সিএসই কার্নিভাল শুরু

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের উদ্যোগে “ইনোভেট টুডে, লিড টুমরো” শিরোনামে দুই দিনব্যাপী সিএসই কার্নিভাল ২০২৬ আজ শুক্রবার (২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রি.) শুরু হয়েছে। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল প্রধান অতিথি হিসেবে কার্নিভালের শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য বলেন, “আমরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লব থেকে পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই এই তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে, যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও রোবটিক্সসহ উদীয়মান প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে নতুন জ্ঞান, উদ্ভাবন ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। আজকের সিএসই কার্নিভাল সেই সম্ভাবনা বিকাশের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম এবং মেধা, উদ্ভাবন ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা। এখানকার অভিজ্ঞতা, পারস্পরিক শিক্ষা ও নেটওয়ার্কিং ভবিষ্যতের গবেষণা, স্টার্টআপ এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পোন্নয়নের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে। ডুয়েট এমন একটি একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্প-একাডেমিয়ার সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠবে।”

মাননীয় উপাচার্য আরও বলেন, “আমরা এমন শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে চাই, যারা শুধু চাকরিপ্রত্যাশী নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী, উদ্যোক্তা, গবেষক এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতৃত্বের অংশীদার হবে। উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের শিক্ষার্থীদের সেই মেধা, সৃজনশীলতা ও সাহসিকতা আছে। আমি বিশ্বাস করি, তাদের হাত ধরেই বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রযুক্তি অঙ্গনে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে।” উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর মাননীয় উপাচার্য ফোরডি চশমা ব্যবহার করে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদুঘরের ভ্রাম্যমান বিজ্ঞান প্রদর্শনী উপভোগ করেন। এছাড়াও তিনি হেড মাউন্টেড ডিভাইস ব্যবহার করে ভার্চুয়াল থ্রিডি এনভায়রনমেন্ট উপভোগ করেন। এ সময় তিনি সিএসই বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত প্রতিযোগী, শিক্ষক, গবেষক, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে মাননীয় উপ-উপাচার্য বলেন, “সিএসই কার্নিভালের মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিকাশের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করে। এখান থেকে অর্জিত জ্ঞান ব্যবহার করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নবতর গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে নিজেদের যথাযথভাবে প্রস্তুত করতে হবে এবং আগামী দিনে গবেষণা ও উদ্ভাবনে দেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে।”

সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মমতাজ বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. রুমা, রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহা. আবু তৈয়ব, সিএসসি কার্নিভালের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এমরান হোসেন, অনুষ্ঠানের অর্গানাইজিং সেক্রেটারি সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. উম্মে ফাওজিয়া রহিমসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, পরিচালকবৃন্দ এবং সিএসই বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আগামীকাল সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া এবং বিডিরেন-এর চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহাম্মদ তাওরিত এবং সম্মানীয় অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির প্রেসিডেন্ট ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ উপস্থিত থাকবেন।

ইনোভার্স বাংলাদেশের ন্যাশনাল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি কার্নিভাল ২০২৬-এর অংশ হিসেবে ডুয়েট কম্পিউটার সোসাইটি এবং হোয়াইটবোর্ড ইনিশিয়েটিভসের সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে দেশের একশোর অধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজার দুইশোর বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। কার্নিভালের প্রথম দিনে আজ ইন্টার-ইউনিভার্সিটি প্রোগ্রামিং কনটেস্ট (আইইউপিসি), এআই হ্যাকাথন, আইসিটি অলিম্পিয়াড এবং প্রজেক্ট শোকেসিং কম্পিটিশন-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা তাদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার পরিচয় তুলে ধরবে। আগামীকাল শনিবার  (২৭ জুন ২০২৬) কম্পিটিশনগুলোর ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতার পর নেটওয়ার্কিং সেশন এবং পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের পর্দা নামবে।

June 25, 2026

ডুয়েটে ইনোভেশন অ্যান্ড অন্ট্রাপ্রেনারশিপ ফেয়ার এবং সেমিনার অনুষ্ঠিত

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এ আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন, ২০২৬ খ্রি.) “ইনোভেশন অ্যান্ড অন্ট্রাপ্রেনারশিপ ফেয়ার ২০২৬” এবং সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) দপ্তর এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার। পরিচালক (আইকিউএসি) অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ও প্যানেলিস্ট হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) অধ্যাপক ড. মো. আনওয়ারুল আবেদীন এবং পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাস। রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানোম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. এ. হাসিব।

সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ আবু সাঈদ প্রশাসনিক ভবনের ৯ম ও ১০ম তলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম সমাপনী বর্ষের ১০টি বিভাগের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে পোস্টার প্রেজেন্টেশনমূলক ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে “ইনোভেশন অ্যান্ড অন্ট্রাপ্রেনারশিপ এডুকেশন ফর ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েটস : গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিস অ্যান্ড ন্যাশনাল পারস্পেকটিভ” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, “আজকের এই আয়োজন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্যের প্রতিফলন। সফল এ আয়োজন প্রমাণ করে যে, আমরা শুধু গ্র্যাজুয়েট তৈরি করি না, আমরা সমাজের পরিবর্তনকারী তৈরি করি। আমাদের শিক্ষার্থীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইন এবং ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাস্তব সমস্যার সমাধান করছে। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের টেকসই প্রকৌশল ও প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ নির্মাণে নেতৃত্ব দেবে।” এ সময় মাননীয় উপাচার্য  দেশের মেগা প্রজেক্টগুলোতে বিদেশী প্রকৌশলীদের প্রাধান্য না দিয়ে দেশের মেধাবী ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের নিয়োগদানের দিকে বর্তমান সরকার প্রাধান্য দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মাননীয় উপাচার্য আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো এমন প্রকৌশলী তৈরি করা, যারা প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং মানবতার সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নত করবে এবং বিশ্ব দরবারে ডুয়েটের সুনাম অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এজন্য ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হয়ে উঠার পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।” বৈশ্বিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষার্থীদের অসাধারণ সৃজনশীলতা আমাদের জাতীয় উন্নয়নেও অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার বলেন, “আজকের এই অনুষ্ঠানে আমরা দেখছি যে, আমাদের শিক্ষার্থীরা কেবল তত্ত্বীয় জ্ঞান নয়, বরং তাদের মেধাবলে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা এবং উদ্ভাবনেও সক্ষম। আজকের এ আয়োজন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পৃথিবীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের শিক্ষার্থীদের আরও বেশি দূরদর্শী ও উদ্যমী করে তুলবে।” 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) অধ্যাপক ড. মো. আনওয়ারুল আবেদীন বলেন, “আজকের এই আয়োজন শুধু একটি একাডেমিক অনুষ্ঠান নয়, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা মানসিকতার মাধ্যমে আমাদের সমাজ এবং বিশ্বকে পরিবর্তন করতে এটি আমাদের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতি এবং দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।” 

সভাপতির বক্তব্যে পরিচালক (আইকিউএসি) অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের কাছে আমার বার্তা হচ্ছে, আপনারা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন, আপনারা বিশ্বের ভবিষ্যৎ নির্মাণকারী গবেষক, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা। আজকের আয়োজন থেকে অর্জিত মূল্যবান অভিজ্ঞতা আপনাদের ভবিষ্যতের পাথেয় হিসেবে ভূমিকা রাখবে।”

আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সেমিনারটি পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. শাহজালাল খন্দকারের ধন্যবাদ জ্ঞাপনমূলক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, প্রভোস্ট, অফিস প্রধানবৃন্দসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

June 21, 2026

ডুয়েটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এ আজ রবিবার (২১ জুন, ২০২৬ খ্রি.) বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও জলবায়ু বিষয়ক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবস- ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেইঞ্জ এন্ড সাসটেইনেবিলিটি রিসার্চ (3CSR)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন 3CSR-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মনোয়ার হোসেন।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সূচনা হয়। বৃক্ষরোপণ শেষে “জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা” শীর্ষক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, ‘আজ আমরা এমন একটি সময়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করছি, যখন জলবায়ু পরিবর্তন মানব সভ্যতার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কেবল নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং কার্যকর উদ্যোগ। একটি বৃক্ষ রোপণ মানে শুধু একটি চারা মাটিতে স্থাপন করা নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্মল বাতাস, নিরাপদ পরিবেশ এবং একটি বাসযোগ্য পৃথিবীর ভিত্তি রচনা করা।’ তিনি প্রযুক্তি ও প্রকৃতির মধ্যে সুষম সমন্বয় ঘটিয়ে টেকসই উন্নয়নের পথে সকলকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
মাননীয় উপাচার্য আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও টেকসই বাংলাদেশ বিনিমার্ণের লক্ষ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় পর্যায়ের এই উদ্যোগকে সফল করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, সচেতনতা এবং ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন ও পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে ডুয়েটকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে আরও সক্রিয় ও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য প্রদান করেন ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (আইডাব্লিউই)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আকরামুল আলম। সভাপতির বক্তব্যে 3CSR-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মনোয়ার হোসেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই পৃথিবী বিনির্মাণ এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নিয়মিত বৃক্ষরোপণ এবং গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, প্রভোস্ট, অফিস প্রধানবৃন্দসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
June 18, 2026

ডুয়েটে গবেষণার অর্জন ও সম্ভাবনা নিয়ে ‘অ্যানুয়াল পেপার মিট’ অনুষ্ঠিত

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এ শিক্ষকবৃন্দের জন্য মঞ্জুরকৃত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের গবেষণা প্রকল্পসমূহের ফলাফল, উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরতে ‘অ্যানুয়াল পেপার মিট’ অনুষ্ঠিত হয়েছে| আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬ খ্রি.) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডুয়েটের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার| অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) অধ্যাপক ড. মো. আনওয়ারুল আবেদীন| অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. শাহজালাল খন্দকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, ‘গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান উদ্ভাবনের মধ্য দিয়েই দেশের শিল্প, অর্থনীতি ও সমাজে কার্যকর অবদান রাখা সম্ভব|’ তিনি গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে অধিকতর প্রকাশনা, পেটেন্ট ও শিল্পখাতের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন| ডুয়েটে গবেষণাকেন্দ্রিক পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করা এবং উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন| তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা, র‌্যাংকিং ও প্রকাশনা বৃদ্ধির জন্য গবেষণা খাতে আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউজিসিকে অনুরোধ জানান| তিনিএই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) এর দপ্তরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

বিশেষ অতিথি মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার গবেষকদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীল প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন| তিনি বলেন, ‘আমরা চাই গবেষণার ফলাফল যেন শিল্প কারখানা এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্য হয়।’ 

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আনওয়ারুল আবেদীন গবেষণা কার্যক্রমের ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং গবেষণাকে সমাজে প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানান।

‘অ্যানুয়াল পেপার মিট’ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের গবেষণা প্রকল্প পরিচালকগণ তাঁদের গবেষণার লক্ষ্য, পদ্ধতি, গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান, অর্জিত ফলাফল এবং সম্ভাব্য প্রয়োগ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন| প্রতিটি উপস্থাপনার পর অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর ও মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা এবং গবেষণালব্ধ ফলাফলের বাস্তবায়ন নিয়ে গঠনমূলক মতামত প্রদান করেন|অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে গবেষণার প্রকল্প পরিচালকবৃন্দকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়| অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগীয় প্রধান, ইনস্টিটিউটেরপরিচালক, অন্যান্য দপ্তরের পরিচালক, অফিস প্রধানবৃন্দ,গবেষণার প্রকল্প পরিচালক, সহযোগী প্রকল্প পরিচালক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।