ডুয়েটে যন্ত্রকৌশল অনুষদের উদ্যোগে দুইদিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্স শুরু
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এ আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি.) ‘থার্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন মেকানিক্যাল, ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড প্রোসেস ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিএমএমপিই-২০২৬)’ শীর্ষক দুইদিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের উদ্বোধন করা হয়।
মেকানিক্যাল, ম্যানুফ্যাকচারিং, এনার্জি, টেক্সটাইল, ফুড, কেমিক্যাল এবং প্রোসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে অধিকতর গবেষণা ও উদ্ভাবনকে লক্ষ্য রেখে আজ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে যন্ত্রকৌশল অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের মাননীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিসেস ফারজানা মমতাজ। কনফারেন্সের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য বলেন, ‘আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব প্রযুক্তিগত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে, যা ন্যানোটেকনোলজি, অটোমেশন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ইন্টারনেট অব থিংস, এডভান্সড সেন্সর, এডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং (থ্রিডি প্রিন্টিং), শক্তি সঞ্চয়, বৈদ্যুতিক যানবাহন, রোবোটিক্স এবং স্মার্ট ম্যাটিরিয়ালসের মতো প্রযুক্তির উৎকর্ষ ও বিকাশের মাধ্যমে বিশ্বকে সমৃদ্ধ করছে।’
তিনি বলেন, ‘ভারী শিল্প, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিদ্যার ত্রিমাত্রিক রূপান্তরের মাধ্যমে পুরানো প্রযুক্তি ছাড়িয়ে মানব সভ্যতা এখন নবতর রূপ লাভ করছে। ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে মোট কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে জলবায়ু পরিবর্তন, সম্পদের ঘাটতি এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বিষয়সমূহকে সামনে রেখে সময়, অর্থ ও শক্তি সাশ্রয়ী এ আবিষ্কারগুলো ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলা করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।’ বক্তব্যে তিনি উদ্ভাবনগলোর সুফল কাজে লাগিয়ে যন্ত্রকৌশল অনুষদের প্রকৌশলীদের দেশ ও জাতিকে পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নেতৃত্ব দেওয়ার আহবান জানান। জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নবতর গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য শিক্ষক, গবেষক, উদ্ভাবক ও শিল্প উদ্যোক্তাসহ সকলকে একযোগে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপ-উপাচার্য বলেন, ‘মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এখন কেবল যন্ত্রপাতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। এডভান্সড ও লাইটওয়েট হাই-স্ট্রেন্থ ন্যানো ম্যাটেরিয়ালস, ডিজিটাল ম্যানুফেকচারিং, এপ্লাইড মেকানিকস, থার্মোফ্লুইডস, এনার্জি এফিশিয়েন্ট থার্মাল সিস্টেম, ট্রাইবোলজি, বায়োডিগ্রেডেবল ফাইবার, নবায়নযোগ্য হাইব্রিড গ্রিড, হাইড্রোজেন এনার্জি সিস্টেমস, ফায়ার সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি আধুনিক মানব সভ্যতায় ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছে।’ গবেষণামূলক দৃষ্টিভঙ্গী তৈরি, নিত্যনতুন আইডিয়ার বাস্তবায়ন ও জ্ঞানের সম্প্রসারণের মাধ্যমে মানব সভ্যতাকে এক ধাপ সামনে এগিয়ে নিতে এ কনফারেন্স ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কনফারেন্স চেয়ার ও যন্ত্রকৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ‘প্রকৌশল প্রযুক্তির সর্বাধুনিক জ্ঞানের বৈশ্বিক বিনিময়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এ কনফারেন্স আগামীর টেকসই পৃথিবী গড়তে ভূমিকা রাখবে।’
কনফারেন্সের অরগানাইজিং সেক্রেটারির বক্তব্যে ইনস্টিটিউট অব এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচালক অধ্যাপক ড. এ এন এম মোমিনুল ইসলাম মুকুট বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ারিং এখন প্রথাগত ল্যাব ও ক্লাসরুমের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ভূমিকা রাখছে। আইসিএমএমপিই-২০২৬ তরুণ গবেষকদেরকে অভিজ্ঞ একাডেমিশিয়ান ও শিল্পখাতের উদ্যোক্তাদের সাথে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার সুযোগ এনে দিয়েছে।’
কনফারেন্সের প্রথম দিনে কী নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাপানের সাগা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আকিও মিয়ারা, পিএইচডি ও টোকিও মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিরোমিচি ওবারা, পিএইচডি। আরও বক্তব্য রাখেন অস্ট্রেলিয়ার আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিজিং ওয়াং, পিএইচডি এবং ইন্দোনেশিয়ার পলিটেকনিক পারকাপালান নেগারির ড. মুহাম্মদ আনিস মুস্তাগফিরিন এসটি., এমটি.।
দুইদিন ব্যাপী এ কনফারেন্সে বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, জাপান, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন প্রভৃতি দেশের মোট ১৯৫টি পেপার উপস্থাপনের জন্য গৃহীত হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দসহ দেশ-বিদেশের শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও গবেষকগণ অংশগ্রহণ করছেন।