প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা তরুণ প্রজন্মের জন্য উদ্ভাবনী চিন্তা ও মেধা বিকাশের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম- ডুয়েটের উপাচার্য
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেছেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের শেষ প্রান্তে এসে আমরা পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের আগমনী বার্তা শুনতে পাচ্ছি। এক্ষেত্রে আমাদের করণীয়, প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ ভাবনার এক নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। এই দ্রæত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সাথে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদেরকে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি গবেষণায় উৎকর্ষ সাধন এবং উদ্ভাবনী চিন্তাগুলো সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা তথ্য-প্রযুক্তিতে উদ্ভাবনী চিন্তা ও মেধা বিকাশ এবং সেই দক্ষতাগুলোর চর্চার জন্য একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী প্ল্যাটফর্ম। এই প্রতিযোগিতা আমাদের বাস্তব সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করবে এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়েরও সুযোগ ঘটবে।’
ডুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের আয়োজনে এবং ডুয়েট কম্পিউটার সোসাইটির সহযোগিতায় আজ শুক্রবার (০৯ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন একাডেমিক ভবনের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে ডুয়েট আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রামিং কনটেস্ট (আইইউপিসি)- ২০২৫ এর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মাননীয় উপাচার্য বলেন, ‘এই তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনের সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিবে। ডুয়েট একটি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এই পরিবর্তনের নেতৃত্বে থাকার জন্য প্রস্তুত। আমরা গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্প-প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই, যাতে তারা কেবল দক্ষ পেশাজীবী নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ হয়ে উঠতে পারে।’ এ সময় তিনি প্রাণপ্রিয় ডুয়েটের অগ্রযাত্রায় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটির মাধ্যমে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা, প্রকাশনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে ডুয়েট ও দেশের টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এ ধরনের আয়োজনের জন্য সিএসই বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তথ্য-প্রযুক্তিতে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর নতুন বাংলাদেশ গঠনে এ ধরনের আয়োজন বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অনুষ্ঠানের আহবায়ক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল কাশেম, অধ্যাপক ড. মো. নাছিম আখতার, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, অধ্যাপক ড. মমতাজ বেগম, ডুয়েট কম্পিউটার সোসাইটির কাউন্সিলর ও সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, ডুয়েট কম্পিউটার সোসাইটির মডারেটর ও অনুষ্ঠানের অরগানাইজিং সেক্রেটারি সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খাজা ইমরান মাসুদ। এছাড়া অরগানাইজিং সদস্য হিসেবে ডুয়েট কম্পিউটার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান বাপ্পি বক্তব্য রাখেন।
দুইদিন ব্যাপী আয়োজিত এই প্রযুক্তি উৎসবে দেশের ৯০ টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী দল ও প্রযুক্তিপ্রেমী শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছে। প্রতিযোগিতার মুল ইভেন্টগুলো হলো প্রোগ্রামিং কনটেস্ট ও আইসিটি অলিম্পিয়াড। উল্লেখ্য, আগামীকাল শনিবার (১০ মে) বিকেলে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে শেষ হবে এই প্রযুক্তি উৎসব।