উপাচার্যের ভবিষ্যত কর্ম-পরিকল্পনা
আমার ডুয়েটের প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আশা করি মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে তোমরা সবাই নিজ নিজ পরিবার-পরিজনসহ সুস্থ, সুন্দর ও ভালো আছো। তোমরা সকলেই অবগত আছো যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আমি, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইকবাল, গত ১৪ মে ২০২৬ তারিখে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর উপাচার্য (Vice-Chancellor) হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হই এবং একই দিনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগদান করি। এরপর ১৭ মে ২০২৬ তারিখে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রথম ক্যাম্পাসে আসি। দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে, যা এখনও আমাকে ব্যথিত করে। তবে আমি বিশ্বাস করি, সকল ভুল বোঝাবুঝি ও বিভ্রান্তি দূর করে আমরা সম্মিলিতভাবে একটি সমৃদ্ধ ও অগ্রসর ডুয়েট গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।
আমার প্রথম পরিচয় আমি একজন শিক্ষক; উপাচার্য হওয়া আমার পরবর্তী পরিচয়। একজন শিক্ষকের কাছে তাঁর প্রতিটি শিক্ষার্থী সন্তানের মতো যাহারা দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাতা। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আমি আজ তোমাদের সামনে একজন অভিভাবক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করছি। তোমাদের কল্যাণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং একটি আধুনিক, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমি অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। তোমরা ডুয়েটের গর্বিত মেধাবী শিক্ষার্থী ও দূত। আমরা শিক্ষকরা তোমাদের পথপ্রদর্শক হিসেবে পাশে থাকবো এবং তোমরা তোমাদের নিজেদের মেধা, সততা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে ডুয়েটের সুনাম দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দেবে - এটাই আমার প্রত্যাশা।
প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি, শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর কোনো ভূমিকা থাকে না। এটি সম্পূর্ণরূপে সরকারের নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। তাই এ বিষয়ে বিভ্রান্তি বা ভুল ধারণার কোনো সুযোগ নেই। আমি এখানে এসেছি একজন শিক্ষক ও একজন অভিভাবক হিসেবে। আমার প্রধান লক্ষ্য হবে ডুয়েটে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা সুবিধা, স্বাস্থ্যসম্মত আবাসন ও খাদ্য ব্যবস্থাসহ সার্বিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।
উপাচার্য হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে একাধিকবার সরাসরি ও অনলাইন সভা করেছি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছি। এরই ধারাবাহিকতায় মেইন ক্যাম্পাস থেকে তিনটি বিভাগ ও তিনটি ইনস্টিটিউট আমাদের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, মানসম্মত শিক্ষা এবং গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। ইতোমধ্যে তোমাদের অনেক সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন দাবি, সমস্যা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে অবগত হয়েছি। এই প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার, মেইন ক্যান্টিন ও অন্যান্য সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছি। গত ৩০/০৫/২০২৬ ইং তারিখে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার পরিদর্শন করে এর বর্তমান সক্ষমতা মূল্যায়ন করেছি। মেডিকেল সেন্টারের অবকাঠামো ও সেবার মান আরও উন্নত করা জরুরি বলে আমি মনে করি। ভবিষ্যতে এখানে দক্ষ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত জনবল, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা ও অতি প্রয়োজনীয় ঔষধপত্রের ব্যবস্থা করা এবং মেডিক্যাল সেন্টারে পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে মেডিকেল সেন্টারকে ২৪ ঘণ্টা কার্যকর রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছি। হল প্রভোস্ট ও DSW সহ বিভিন্ন হল, হলের ডাইনিং ও টিভি রুম পরিদর্শন করেছি। সামনে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা ছাত্ররা যেন নির্বিঘ্নে উপভোগ করতে পারে এর জন্য অডিটোরিয়ামের সামনে স্থাপিত এলইডি মনিটর চালু করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, খাদ্যমান ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ঈদের দিন হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিয়েছি এবং ঈদুল আযহা উপলক্ষে বিভিন্ন হলে অবস্থানরত সকল শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এজন্য DSW এবং হলের প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আহত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছি এবং তাদের পরিবারের অভিভাবকদের খোঁজখবর নিয়েছি।
আমার মেয়াদকালে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রমসমূহঃ
১। মেইন ক্যাম্পাস ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের মধ্যে নিরাপদ সড়ক সংযোগ স্থাপন
বর্তমানে দুটি ক্যাম্পাসের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য একটা কানেক্টিং ওভারপাস অথবা রাস্তা তৈরি করা। দুই ক্যাম্পাসের মধ্যে একটি সংযোগ সড়ক বা ওভারপাস নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হবে। ইতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়া গেলে দ্রুত বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে। এতে ক্যাম্পাসের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং সময় বাঁচবে।
২। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি সম্প্রসারণ
ভবিষ্যৎ উন্নয়নের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
৩। ডুয়েটের ভর্তি নীতিমালা সম্পর্কে স্পষ্ট অবস্থান
বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আলোচিত প্রপাগান্ডা হচ্ছে ডুয়েটে এইচএসসি পাশ করা শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন একটা মনগড়া কথা। একটি বিশেষ মহল বাংলাদেশের প্রকৌশল সেক্টরে ডুয়েটিয়ানদের সাফল্য দেখে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার জন্য এই ধরনের গুজব রটাচ্ছে। আমরা সবাই জানি বাংলাদেশে ডুয়েট হচ্ছে একটি বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যেখানে একমাত্র ডিপ্লোমা প্রকৌশলীগণ সরকারিভাবে তাদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পেয়ে থাকে। এখানে ভর্তি পরীক্ষায় কোনো ভাবেই ডিপ্লোমা লেভেলের বাহিরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
৪। Board of Accreditation for Engineering and Technical Education (BAETE)-IEB Accreditation অর্জন
তোমরা সকলেই জানো আমাদের ডুয়েট এখনও AETE-IEB দ্বারা accreditation করা হয়নি। এখন আমার মূল লক্ষ্য হচ্ছে আগামী ২ বছরের মধ্যে ডুয়েট এর ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামসমুহ accreditation করানো। আমি নিজেও এই accreditation প্রসেস এর সাথে সরাসরি জড়িত। আমি বাংলাদেশের বুয়েট, রুয়েটসহ অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের accreditation এর ইভালুয়েশন টিমের সাথে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেছি। বিশেষ করে যে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) প্রোগ্রাম আছে সেখানে আমি ইভালুয়েটর হিসাবে গিয়েছি। এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় কর্মশালা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বর্তমানে BAETE-IEB হচ্ছে ওয়াশিংটন অ্যাকর্ড এল্যায়েন্স এর ফুল মেম্বার। যার ফলে বিশ্বের যে সকল দেশে ওয়াশিংটন অ্যাকর্ড এল্যায়েন্স এর অধীনে প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে সেই সকল দেশে আমাদের দেশের গ্র্যাজুয়েটগণ সরাসরি চাকুরীর আবেদন করতে পারবে।
৫। ডুয়েট শিক্ষার্থীদের সশস্ত্র বাহিনীতে চাকুরীর আবেদনের সীমাবদ্ধতা দূর করা
বর্তমানে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে চাকুরীর আবেদন করতে ডুয়েট এর গ্র্যাজুয়েটদের কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শুধুমাত্র এইচএসসি/ দাখিল এই অপশন আছে কিন্তু ডিপ্লোমা ডিগ্রীর অপশন উল্লেখ নেই। যার ফলে আমাদের গ্র্যাজুয়েটগণ আবেদন করতে পারছে না। অথচ আমাদের এলামনাই বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, কর্নেল, ও লে: কর্নেল পদমর্যাদায় সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত আছেন। আমরা অতি দ্রুত এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে সেনা সদর দপ্তরে একটা মিটিং এর ব্যবস্থা করবো। আশা করি এই বিষয়টি যেভাবেই হোক সমাধান করা হবে।
৬। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং উন্নয়ন
বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে অন্তর্ভুক্ত ও উন্নীত করার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এই র্যাঙ্কিং-এর অন্যতম একটি শর্ত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় BAETE-IEB দ্বারা accreditation করাতে হবে। এ লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা হবে।
৭। স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ
ডুয়েটের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্যই ডুয়েট গ্র্যাজুয়েটবৃন্দ অগ্রাধিকার পাবে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা ও মেধার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মের সুযোগ থাকবে না।
৮। বার্ষিক অন-ক্যাম্পাস জব ফেয়ার
প্রতি বছর দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসমূহকে নিয়ে অন-ক্যাম্পাসে লেভেল ৪-টার্ম ২ এর শিক্ষার্থীদের জন্য জব ফেয়ারের আয়োজন করা হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পাশ করে কষ্ট করে দূরে গিয়ে জবের ইন্টারভিউ দিতে হবে না এবং শিক্ষার্থীদের ব্যয় হ্রাস পাবে।
৯। শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা বৃদ্ধি
দেশের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তোলা হবে এবং নিয়মিত ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। এই ধরনের কার্যক্রম উন্নত বিশ্বের সব দেশে প্র্যাকটিস রয়েছে এবং এই ধরনের কার্যক্রম BAETE-IEB এর accreditation এর কাজে সহায়ক হবে।
১০। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম
দেশের বাহিরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কোলাবোরেশন করা হবে। এর ফলে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম এর আওতায় দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক একে অপরের সাথে শিক্ষা, গবেষণা ও কালচার আদান প্রদান হবে। এই ধরনের কোলাবোরেশন শুধুমাত্র কাগজ কলমে না থেকে বাস্তবে দেখা যাবে। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা গড়ে তোলা হবে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
১১। খেলার মাঠ উন্নয়ন
কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের মধ্যবর্তী এলাকায় থাকা অপ্রয়োজনীয় স্ক্র্যাপ অপসারণ করে মাঠকে খেলাধুলার উপযোগী করা হবে যার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
১২। M-DUET ফান্ডের সুষ্ঠু ব্যবহার
বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে M-DUET ফান্ডের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে এবং আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।
১৩। আধুনিক টিএসসি (TSC) প্রতিষ্ঠা
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং সৃজনশীল কর্মকা-ের জন্য একটি আধুনিক টিএসসি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
১৪। আধুনিক ক্রীড়া, স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা ও সমাবর্তন করা
ভবিষ্যতে ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের সঙ্গে সমন্বয় করে আধুনিক জিমনেসিয়াম, সুইমিং পুল এবং পেশাদার প্রশিক্ষকের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমি জেনেছি ডুয়েটে সর্বশেষ ২০১৮ সালে শেষ (২য় সমাবর্তন) সমাবর্তন হয়েছে। গত ৮ বছর যাবত আর কোনো সমাবর্তন হয়নি। সরকারের শিডিউল নিয়ে খুব শীঘ্রই একটি সুন্দর ও সফল সমাবর্তন আয়োজনের ব্যবস্থা করা হবে।
১৫। ক্লাবসমূহের কার্যক্রম ত্বরান্বিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করা
ক্যাম্পাসে বর্তমানে বিভিন্ন ক্লাবের কার্যক্রম চলমান আছে। এই সকল ক্লাবসমুহের কার্যক্রমকে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দেশের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবস্থা করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রে টাইটেল স্পন্সর এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমার লক্ষ্য থাকবে প্রতিটি ক্লাব যেন তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়।
১৬। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেশের পলিসিমেকারদের/ নীতিনির্ধারকদের আমন্ত্রণ জানানো
সাধারনত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি সেমিস্টারে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়ে থাকে। সেখানে দেশের উচ্চপর্যায়ের স্বনামধন্য পলিসিমেকারদের/ নীতিনির্ধারকদের আমন্ত্রণ করা হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি বাড়বে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড পেতে সহায়ক হবে।
১৭। ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত করা
ক্যাম্পাসে সকল শিক্ষার্থীদের সহাবস্থান নিশ্চিত করার জন্য আমাদের প্রশাসন সবসময় কাজ করবে। এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সকলের এবং আমাদের সকলের প্রচেষ্টায় এই ক্যাম্পাস আরও সুন্দর হবে। আমাদের সুনাম যেন ক্ষুন্ন না হয় সেই লক্ষে প্রশাসন সচেষ্ট থাকবে এবং কাজ করবে।
প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, আমি বিশ্বাস করি যে প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি বিশ্ববিদ্যালয় তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। আমি একা নইÑআমরা সবাই মিলে ডুয়েটকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, আধুনিক, গবেষণাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করব, ইনশাআল্লাহ।
আসুন, আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে ডুয়েটের উন্নয়নে কাজ করি এবং আমাদের প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাই। সবার জন্য আন্তরিক শুভকামনা ও দোয়া রইল। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইকবাল
উপাচার্য
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর