ডুয়েটে স্মার্ট বাংলাদেশ দিবস উদযাপিত
বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এ স্মার্ট বাংলাদেশ দিবস-২০২৩ উদ্যাপিত হয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের দেয়ালে স্থাপিত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর দিবসটি উপলক্ষ্যে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুর রশীদ, বিভিন্ন অনুষদের ডীনবৃন্দ, বিভাগীয় প্রধানগণ, পরিচালকবৃন্দ, রেজিস্ট্রার (অ. দা.), অফিস প্রধানগণ এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আহ্সান উল্লাহ মাস্টার অডিটোরিয়ামে স্থাপিত জায়ান্ট স্ক্রীনে স্মার্ট বাংলাদেশ বিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
এরপর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেশন টিমের উদ্যোগে অনলাইন জুম প্লাটফর্মের মাধ্যমে ‘অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক এক ভার্চুয়াল কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেশন টিমের ইনোভেশন অফিসার পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. হাবিবুর রহমান। কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন হিসেবে যুক্ত ছিলেন এটুআই প্রোগ্রামের কনসালটেন্ট (ডেপুটি সেক্রেটারি) এএইচএম মাহফুজুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপাচার্য বিজয়ের এই মাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাসহ ১৪ ডিসেম্বরের সকল শহীদ বুদ্ধিজীবি ও মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদের প্রতি এবং ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও তাঁদের পরিবারের শাহাদাত বরণকারী সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাসহ জাতীয় চার নেতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সবসময় বাঙালি জাতিকে বিজ্ঞানমনষ্ক ও শিক্ষিত করে তোলার প্রচেষ্টা করেছেন। তাঁর আদর্শকে ধারণ করে বর্তমান সরকার তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণের মাধ্যমে সকল উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। এর ফলে ডিজিটাল সক্ষমতা সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সুবিধা তৈরি হওয়ায় আমাদের বৈশ্বিক পরিমন্ডলে নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের আলোকে স্মার্ট বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস, ব্লক চেইন, রোবোটিক্স, বিগ ডাটা, মেডিকেল স্ক্রাইব, সাইবার নিরাপত্তার মতো উন্নত প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
উপাচার্য ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার চারটি ভিত্তি তথা স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও স্মার্ট সোসাইটি-এর স্তম্ভগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা এবং তাঁর সুযোগ্য পুত্র আর্কিটেক অব ডিজিটাল বাংলাদেশ সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। এছাড়া তিনি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার স্বপ্নকে আরো বেগবান করতে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহবান জানান।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সেন্টারের পরিচালক ও আইসিটি সেলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফজলুল হাসান সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইসিটি সেলের সহকারী কম্পিউটার প্রোগ্রামার ইঞ্জিনিয়ার উৎসব রায়। কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।